Tuesday, December 27, 2022

বন্ধক উদ্ধার আইনগত অধিকার। Redemption of Mortgage is a legal Right

 বন্ধক উদ্ধার  কি ? Redemption of Mortgage  

সাধারন অর্থে বন্ধক হল - প্ৰদত্ত বা প্রদেয় ঋণের অথবা অন্য কোন অর্থিক দায় সৃষ্টিকারী লেনদেনের নিশ্চয়তা বিধানের উদ্দেশ্যে কোন স্থাবর (অস্থাবর নয়) সম্পত্তিস্থ স্বার্থের (সম্পত্তিটি নয়) সাময়িক হস্তান্তর। এই হস্তান্তর যিনি করেন তিনি হলেন বন্ধকদাতা (mortgagor), আর এই স্বার্থ যিনি পান তিনি হলেন বন্ধকগ্রহিতা (mortagee), আর যে অর্থের নিশ্চয়তার জন্য বন্ধক সৃষ্টি করা হয় সেই অর্থ এবং তার সুদ হল বন্ধকী অর্থ (mortgage money)। আবার, ভিন্নরকম উল্লেখ না থাকলে বন্ধকদাতা ও বন্ধকগ্রহিতার কাছ থেকে স্বত্ব অর্জনকারীদেরও যথাক্রমে বন্ধকদাতা ও বন্ধকগ্রহিতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে 59A ধারায় ।

১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে Redemption বা রেহেনমুক্ত করার অধিকার হল, রেহেনদাতার রেহেন সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার অধিকার। এই অধিকার একাধারে আইনগত অধিকার ও ন্যায়পর অধিকার। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেহেনমুক্ত করা হলে তা আইনগত অধিকার, আর নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর রেহেনমুক্ত করা হলে তা ন্যায়পর (Equitable) অধিকার। রেহেন দ্বারা রেহেন সম্পত্তির সীমিত স্বার্থ রেহেন গ্রহীতার নিকট হস্তান্তরিত হয়। রেহেনদাতা রেহেন সম্পত্তির মালিকানা হারায় না। রেহেনী অর্থ পরিশোধযোগ্য হওয়ার পর রেহেনদাতা সুদসহ রেহেনী অর্থ পরিশোধ করে রেহেনী সম্পত্তি মুক্ত করার অধিকারী।


সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৬০ ধারায় বলা হয়েছে যে, রেহেনের আসল অর্থ পরিশোধযোগ্য হবার পর, যে কোন সময় উপযুক্ত স্থানে ও সময়ে টাকা পরিশোধ করা হলে বা পরিশোধের জন্য পেশ করা হলে রেহেনদাতার রেহেনগ্রহীতাকে বাধ্য করার অধিকার জম্মায়


 মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের  হাইকোর্ট ডিভিশনের  একটি রায়ের M. A. Hashem vs. Artha Rin Adalat, Dhaka & Ors,6 SCOB [2016] HCD 19 (Para-33) মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে  

It is this Court's view that the distinction between legal and equitable rights and interest does not exist under the existing legal regime governed by the Transfer of Property Act, 1882. Thus, the right of redemption of the mortgagor is not an equitable right but a legal right conferred by statute. Therefore, a mortgagor under Bangladeshi law always retains a legal interest before and after the expiry of the date of payment. Therefore, the right of redemption is not an equitable form of relief to be given on such terms as the court considers equitable but a statutory right conferred and available only upon terms statutorily defined and stated. In view of the above, it is found that the Judgment- Debtors/Respondents being mortgagors of the property in question possessed an inalienable right to redeem their property at all material times. The right of the Respondents over the mortgaged property is, accordingly, found by this Court to have been created when the property was mortgaged. Such right remained inalienable and in fact even after expiry of the date, of repayment. Resultantly, there is found no scope to argue that the Petitioner's right was first created in terms of time.”



বন্ধক উদ্ধারের তামাদি এবং প্রতিবন্ধকতা

বন্ধকদাতার এই অধিকার সৃষ্টি হওয়ার দিন থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বহাল থাকে, তামাদি আইনের ১ম তপশিলের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী। এই সময় শেষ হবার আগে শর্তনির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনা পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে তার এ অধিকার কোনভাবেই নষ্ট হয়না, দলিলে সেরকম কিছু লেখা থাকলেও নয়। আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতি হল – "Once mortgage always mortgage." আর তাই, বিক্রীর শর্তে বন্ধক ও ইংলিশ বন্ধকের মত বন্ধকও উদ্ধারযোগ্য। তবে, বন্ধক দেবার পরবর্তীতে বন্ধকগ্রহিতার অনুকূলে চিরস্থায়ীভাবে স্বত্ব হস্তান্তরের মত পৃথক কোন নতুন চুক্তি করলে বন্ধক উদ্ধারের অধিকারটি বিনষ্ট হবে নিশ্চিত।  তবে আইনে Redemption বা রেহেনমুক্ত করার অধিকার  আংশিক উদ্ধার চলে না।বন্ধকদাতার বিরুদ্ধে বন্ধকগ্রহিতা কোন ডিক্রী পেলেও বন্ধক উদ্ধারের অধিকার হরণের (foreclosure) ডিক্রী চুড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত বা বিক্রী চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত, বন্ধক উদ্ধারের অধিকার বিনষ্ট হয়না। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৮২ ধারানুযায়ী বন্ধকী, সম্পত্তির অংশিদাররা তাদের অংশানুপাতে বন্ধকী পাওনার জন্য দায়ী। কিন্তু, এরকম কোন অংশিদার হারাহারি মতে টাকা পরিশোধ করে কেবল তার অংশটুকুর বন্ধক উদ্ধার করতে পারবেন না যদি না বন্ধকগ্রহিতা স্বয়ং বন্ধকী সম্পত্তির সম্পূর্ণ বা অংশ বিশেষের স্বত্ব অর্জন করে থাকেন। সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৬০ ধারায় এই বাধা আরোপ করা হয়েছে।



  ধন্যবাদান্তে

Muhammad Ullah,
Advocate,  Supreme Court of Bangladesh,
Head of   Chamber "Muhammad Ullah and Associates",  
Meherba Plaza, Suite No. 9/A, 
(9th Floor) 33, Topkhana Road, 
Purana Paltan, Dhaka-1000.
Email: mullahiuk@gmail.com,
Cell:  01719917214

 



Ragging/ র‌্যাগিং আইনত সামাজিক অপরাধ : Ragging is a social offence .


র‌্যাগিং কি?

র‌্যাগিং শব্দরে র্অথ নাকি 'পরচিয়র্পব'। কিন্তুু বাস্তবে পরচিয়র্পবরে নামে চলে মানসকি নর্যিাতন। আমাদের দেশের শিক্ষা প্রদিষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুরানো শিক্ষার্থীদের  সখ্য গড়ে তোলার জন্য যে পরিচিতি প্রথা  এ দেষশ সেটাকে র‌্যাগিং অভিহিত করা হয় ।

মূলত র‌্যাগিং এর নামে শারীরিক করা হয় তম্মোধ্যে, কার ধরে ওঠবস করোনো, রড/ লাঠি দিয়ে পেটানো, পানিতে চুবোনা, উচু ভবস থেকে লাফ দেওয়ানো, গাছে ওঠানো, সিগারেটের আগুনে ছেকা দেয়া সহ বিভিন্ন রকম শারীরিক ও মানুষিক নির্য াতন গাালগালাজ করাসহ বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার যাহার ফলে অনেক শিক্ষার্থী  শিক্ষা প্র্রতিষ্ঠার ছেড়ে চলে যায়  এমনকি শিক্ষা জীবনের পরিসমাপ্তি ঘঠে যাহা রতিমত অন্যায় অপরাধ বটে

 মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের  মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের  হাইকোর্ট ডিভিশনের  একটি রায়ের এ.এস.এম.  মাহাদী হাসান বনাম বাংলাদেশ, 27 BLC (HCD) 581 (Para-27 & 28) অবজারবেশন রয়েছে,  

 “ দিনে  একটি সামাজিক-আইনি সমস্যা বলে মনে হয়।  এটি ভুক্তভোগীকে হতাশ করে, যারা অনেক আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে উচ্চ শিক্ষা জীবনে যোগ দেয়।  গুরুতর আঘাত সহ শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি, এটি একই সাথে গুরুতর মানসিক চাপ এবং ভুক্তভোগীকে আঘাত করে।  এমনকি ভুক্তভোগী বাদ পড়তে পারে এবং এর ফলে তার কর্মজীবনের সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।  চরম ক্ষেত্রে, আত্মহত্যা এবং অপরাধমূলক হত্যার ঘটনাও ঘটতে পারে।  পরিস্থিতিতে, এই সামাজিক-অ্যাকাডেমিক ব্যাধিকে প্রতিহত করার জন্য, সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ (বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে) র্যাগিংয়ের নামে যে কোনও ধরণের কার্যকলাপ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা উচিত।”

র‌্যাগিংয়ের জন্য আলাদা কোন আইন নেই। কেউ হত্যার শিকার হলে বা শারিরীকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হলে বাংলাদেশের ফৌজদারি মামলা করা যায়।কেবল র‌্যাগিং-বুলিংয়ের ঘটনা ঘটলেও যদি ফৌজদারি মামলা করার সুযোগ তৈরি হয় তাহলে অপরাধপ্রবণতা কমবে। একইসঙ্গে সচেতনতা ক্যাম্পেইনও দরকার। যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন  দশ বছরে সেটিই নিশ্চিত করা যায়নি।    র‌্যাগিং একটি সামাজিক অপরাধ (offense against society) ।  এই সামিাজিক অপরাধের জন্য পুরো সমাজ, রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্থ হয়।  এই অপরাধের ধরন, প্রকতি  হত্যার   (offense against society ) চেয়ে ভয়ংকর বিধায়  এই অপরোধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা  উচিত তাহলে  এই র‌্যাগিং  অপরাধ লাগব করা সম্ভব।  সম্প্রতি সময়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার ঘটনা পুরো জাতিকে হতাশ করেছে ।  র‌্যাগিংয়ের জন্য আলাদা কোন আইন অথবা র‌্যাগিং েকে শিডিউলভুক্ত অপরাধের মধ্যে অন্তভুক্ত করা জরুরী। 



 ধন্যবাদান্তে

Muhammad Ullah, offense against society  offense against the man 
Advocate,  Supreme Court of Bangladesh,
Head of   Chamber "Muhammad Ullah and Associates",  
Meherba Plaza, Suite No. 9/A, 
(9th Floor) 33, Topkhana Road, 
Purana Paltan, Dhaka-1000.
Email: mullahiuk@gmail.com,
Cell:  01719917214

 


Thursday, December 15, 2022

প্রচলিত আইন ও ইসলামী আইনে ধর্ষণের ফলশ্রতিতে জন্মলাভকারী শিশু সংক্রান্ত বিধান

 ধর্ষণ এর সংজ্ঞা

ধর্ষণ শব্দের অর্থ হল অত্যাচার, বলৎকার । আরবীতে যার প্রতিশব্দ হলো ‘ইগতিসাব’   যার শব্দমুল ‘গসব’  অভিধানে এর বিভিন্ন অর্থ পরিদৃষ্ট হয়। ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Rape’  সুতরাং ধর্ষণ হলো যৌন চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কোন পুরুষ কোন নারীকে তার সম্মতি ব্যাতিত তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সহবাস করাকে ধর্ষণ বলে। ড. আলী আহমাদ ইয়াহইয়া আল-ক্বা’ঈদী বলেন, “বিধি বিধানের তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক অবৈধ যৌণসঙ্গোমকে প্রচলিত অর্থে ধর্ষণ বলা হয়। আর এভাবে কাউকে ব্যভিচার ও সমকামিতয় বাধ্য করাকেও ধর্ষণ বলে”

  ধর্ষণের ফলশ্রতিতে জন্মলাভকারী শিশু সংক্রান্ত বিধান 


নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সর্বশেষ সংশোধিত ২০২০) এর ধারা ১৩  (১) মতে-অন্য কোন আইনে ভিন্নতর যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ধর্ষণের কারণে কোন সন্তান জন্মলাভ করিলে-

 (ক) উক্ত সন্তানকে তাহার মাতা কিংবা তাহার মাতৃকুলীয় আত্মীয় স্বজনের তত্তাবধানে রাখা যাইবে;

(খ) উক্ত সন্তান তাহার পিতা বা মাতা, কিংবা উভয়ের পরিচয়ে পরিচিত হইবার অধিকারী হইবে;

(গ) উক্ত সন্তানের ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহণ করিবে; 

(ঘ) উক্ত সন্তানের ভরণপোষণের ব্যয় তাহার বয়স একুশ বৎসর পূর্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রদেয় হইবে, তবে একুশ বৎসর অধিক বয়স্ক কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে তাহার বিবাহ না হওয়া পর্যন্ত এবং পুত্র সন্তানের ক্ষেত্রে তিনি স্বীয় ভরণপোষণের যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত প্রদেয় হইবে; 

 ধারা ১৩ (২) সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত সন্তানের ভরণপোষণ বাবদ প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করিবে। 

ধারা ১৩ (৩) এই ধারার অধীন কোন সন্তানকে ভরণপোষণের জন্য  প্রদেয় অর্থ সরকার ধর্ষকের নিকট হইতে আদায় করিতে পারিবে এবং ধর্ষকের বিদ্যমান সম্পদ হইতে উক্ত অর্থ আদায় করা সম্ভব না হইলে, ভবিষ্যতে তিনি যে সম্পদের মালিক বা অধিকারী হইবেন সেই সম্পদ হইতে উহা আদায়যোগ্য হইবে।


ধর্ষণ বা যিনার মাধ্যমে জন্ম লাভ করা অবৈধ সন্তানের শরয়ী বিধান

ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী পর্দার বিধান পালনে অনিহা, নর-নারীর অবাধ মেলা-মেশা ও আকাশ সংস্কৃতির প্রভাবে ধর্ষণ, ইভটিজিং, যৌন নির্যাতন, যৌন নীপিড়নসহ নানাবিধ মানবতার সমস্যা ও নৈরাজ্য ক্রমবর্ধমান।  বর্তমান সময়ে নারী-পুরুষের অবৈধ মিলন এবং ধর্ষণের ফলে জন্ম লাভ করা সন্তান একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে বিবেচিত। মার্জিত ভাষায় অবৈধ সন্তানকে ”অনাকাঙ্খিত সন্তান” এবং সাধারণভাবে ”জারজ সন্তান” বলা হয়। ধর্ষণ বা যেনার মাধ্যমে কোন সন্তান জন্ম লাভ করলে মুসলিম সমাজে তার গ্রহণযোগ্যতা, ভরণ-পোষণ, জন্ম পরিচয়, ধর্মীয় পরিচয়, অভিভাভকত্ব, উত্তরাধিকার লাভ, বিবাহ, মৃতু হলে গোসল, দাফন-কাফন, যানাযার সালাত আদায়, তার কবর স্থান নির্ধারণ সর্বপরি তার সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার ইত্যাদী বিষয়ে নানা প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। সামাজিক জীবনের অন্যান্য সমস্যার সমাধানের মত ইসলামে আলোচ্য সমস্যারও বাস্তব, সুষ্ঠু, সর্বোৎকৃষ্ট ও মানবতাঘনিষ্ট সমাধান রয়েছে।

সন্তানের বৈধতা লাভের একমাত্র উপায় হলো স্বামী-স্ত্রীর বৈধ বিবাহ। এ জন্য ইসলাম অন্যান্য ধর্মমতে সম্পাদিত বৈধ বিবাহকে স্বীকৃতি প্রদান করে। অমুসলিমদের জন্য ইসলামী রীতি মেনে বিয়ে জরুরী নয়, শুধু মুসলিমরাই ইসলামী পদ্ধতি মেনে বৈধ ভাবে বিবাহ কার্য সম্পাদন করবে। মানবসন্তানের বংশ সংরক্ষণ ইসলামে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে অমুসলিমরা তাদেও নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি মেনে বিয়ে করলে ইসলাম সে বিয়েকেও বৈধতার সনদ প্রদান করে।

জারজ বা অবৈধ সন্তানের মা মুসলিম হলে উক্ত সন্তান মুসলমানদের সন্তানের মত মুসলিম পরিবারে লালিত-পালিত হবে মুসলিম হিসেবে ধর্মীয় পরিচিতি লাভ করবে। তার প্রতি কোন রকম অবজ্ঞা ও আচার-আচারনে, শিক্ষা-দীক্ষায় কোন রকম শৈথিল্য প্রদর্শণ না করে মার্জিত আচরণ ও সদ্ব্যবহার করতে হবে। তার পিতা-মাতার পাপাচারের কারণে তাকে দোষারোপ করা যাবে না। মহান আল্লাহর বাণী: এবং কেউ অপরের বোঝা বহন করবে না।

যিনা বা ধর্ষণের ফলে যদি সন্তান গর্ভে এসে যায় তবে রূহ আসার পর গর্ভপাত করা সম্পূর্ণ হারাম। কেননা, বৈধ দম্পতির গর্ভের ভ্রæণ রূহ আসার পর গর্ভপাতের মাধ্যমে হত্যাকে ’অন্যায় হত্যা’ বলাহয়, যা আল্লাহ হারাম করেছেন। সুতরাং অবৈধ মেলা-মেশার মাধ্যমে আসা গর্ভস্ত সন্তান হত্যা করা আরো বেশী গর্হিত হারাম হবে, এটাই স্বাভাবিক।  এক্ষেত্রে গামিদিয়া মহিলার উদাহরণ বিশেষভাবে প্রনিধানযোগ্য। হাদীসে এসেছে, গামিদিয়া গোত্রের কোন এক গর্ভবতী মহিলা নবী করীম সা. এর খেদমতে হাজির হয়ে ব্যভিচারের স্বীকৃতি দিয়েছিলো। তখন নবী সা. উক্ত মহিলাকে ফিরে যেতে বলেন এবং সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর আসতে বলেন। সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর আসলে নবী করীম সা. বললেন, তার ছোট শিশু সন্তানকে রেখে আমি তাকে রজম করতে পারি না। কেননা তার শিশু সন্তানকে দুধ পান করানোর মত কেউ নেই। 

উক্ত হাদীস থেকে স্পষ্টত: বুঝাযয় যে, রাসূলুল্লাহ সা. উক্ত মহিলামে গর্ভপাত করার অনুমতি দেন নি এবং তার উপর হদ্দ (রজম) প্রয়োগ করেন নি; বরং তাকে ১ম বার সন্তান ভূমিষ্ট হওয়া পর্যন্ত এবং ২য় বার দুগ্ধ পানের মেয়াদ পর্যন্ত অবকাশ দেয়ার কথা বলেছিলেন। সুতরাং যেনা বা ধর্ষণের মাধ্যমে অবৈধভাবে  গর্ভবতী হলে ভ্রণে রূহ আসার পর গর্ভপাত করা হারাম। গর্ভপাতের সুযোগ দেয়া হলে যিনা ও ধর্ষণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। সর্বপরি সন্তানের তো কোন দোষ নাই।  

এরুপ সন্তানের জন্মগ্রহণ দুই অবস্থায় হতে পারে। 

১. সন্তানটি জন্ম নেয়ার আগেই ব্যভিচারী ব্যভিচারিনীকে বিয়ে করে নিয়েছে। এক্ষেত্রে বিবাহের ছয় মাস পর জন্মগ্রহণ করলে উক্ত সন্তান স্বামী-স্ত্রীর বৈধ সন্তান হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে। 

এক্ষেত্রে তাদের শারীরিক সম্পর্ক কখন কিভাবে হয়েছে তা ধর্তব্য নয়। কারণ: তা অত্যন্ত গোপনীয় ও স্পর্শকাতর বিষয়। উল্লেখ্য যে, বিয়ের পওে যদি স্বামী ছাড়া অন্য কারো সাথে অবৈধ মিলনে কোন সন্তান জন্মলাভ করে, তবে উক্ত সন্তানের পিতৃত্বের সম্পর্ক স্ত্রীর বৈধ স্বামীর ধর্তব্য হবে। মহিলার বৈধ স্বামীই উক্ত সন্তানের বৈধ পিতা বিবেচিত হবে। এক্ষেত্রে সন্তানটিকে অবৈধ বলা যাবে না। মহানবী হযরত মোহাম্মদ স. বলেছেন,  বিছানা যার, সন্তান তার । অর্থাৎ সন্তান বৈধ স্বামীরই গণ্য হবে, আর ব্যভিচারী বঞ্চিত হবে।

সুতরাং এটা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, ইসলাম মানবসন্তানের বংশ সংরক্ষণে ও তাকে অসম্মানের হাত থেকে বাঁচাতে সর্বাধিক অগ্রাধিকার প্রদান করেছে এবং যে কোন সম্ভাবনায় বৈধতা দেয়ার ক্ষেত্রে সীমাহীন গুরুত্ব প্রদান করেছে। আলী ইবন আসীম ইমাম আবুহানিফা র. থেকে বর্ণনা করেন:


অর্থাৎ অবৈধ সঙ্গমের ফলে যদি গর্ভে সন্তান এসে যায়, তারপর যদি তারা একে অপরকে বিয়ে করে নেয়, তাহলে বিষয়টি গোপন করা এবং সন্তানটির পিতা উক্ত স্বামী; এ কথা বলার মাঝে আমি মন্দ কিছু দেখি না।  

২. আর যদি ধর্ষণকারী ধর্ষিতাকে বা যিনাকারী যিনকারীনীকে বিয়ে না করে, অথবা বিয়ে করলেও বিয়ের আগেই ধর্ষিতা বা ব্যভিচারিনী সন্তান প্রসব করে দেয় তাহলে উক্ত সন্তান বৈধ সন্তান বলে বিবেচিত না হয়ে জারজ সন্তান হিসেবে বিবেচিত হবে। বিয়ের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার পূর্বে জন্মলাভ করা সন্তানের বংশ পিতার সাথে নির্ধারণ হবে না এবং  সে পিতার উত্তরাধিকার হবে না। তবে পিতা উক্ত সন্তানকে কিছু লিখে দিলে ভিন্ন কথা।


উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সংক্ষিপ্তাকারে ধর্ষণ বা যিনার মাধ্যমে জন্মলাভ করা অবৈধ বা জারজ সন্তানের হুকুম তুলে ধরা হলো।

ক্স তার বংশ মায়ের থেকে সাব্যস্ত হবে। পিতা অবৈধ হওয়ায় তার সাথে সম্পর্কিত হবে না। সেজন্য এরুপ সন্তান পিতার বদলে শুধু মায়ের নাম ব্যবহার করবে। 

عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فُلاَنًا ابْنِى عَاهَرْتُ بِأُمِّهِ فِى الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ্র لاَ دِعْوَةَ فِى الإِسْلاَمِ ذَهَبَ أَمْرُ الْجَاهِلِيَّةِ الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ গ্ধ .

আমর ইবনু শু’আইব রা. থেকে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক আমার পুত্র, জাহেলী যুগে আমি তার মায়ের সাথে যিনা করেছিলাম। রাসূল সা. বললেন: ইসলামে অবৈধ সন্তানের দাবীর কোন ব্যবস্থা নেই। আর জাহেলী যুগের প্রথা বাতিল হয়ে গেছে। বিছানা যার সন্তান তার এবং যিনাকারীর জন্য রয়েছে পাথর।

ক্স সন্তানের মা তার লালন-পালনের অধিকারী হবেন। মায়ের পক্ষ এমন সন্তানের ভরণ-পোষণ বহন করবে। অর্থৎ এ সন্তানের মায়ের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব যার, তিনিই সন্তানের ভরণ-পোষণ দিবেন। 

ক্স মায়ের দায়িত্বশীলরা এরুপ সন্তানের আকিকা করবে। আকিকার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে যাতে সন্তানের অমর্যাদা না হয়। 

ক্স মায়ের দিকে বংশ সাব্যস্ত হওয়ায় সে শুধুমাত্র মা ও মায়ের নিকটাত্মীয়দের উত্তরাধিকারী হবে,  হাদীসে এসেছে: জারজ সন্তান তার পিতার থেকে মীরাস লাভ করবে না  ।

ক্স ন্যায় পরায়ণ হলে,  অন্যদের মত তার সাক্ষীও ইসলামে গ্রহণযোগ্য হবে  । কারণ তার পিতা-মাতার ফাসেকীর কারণে সে ফাসেক হিসেব গণ্য হবে না  । মহান আল্লাহর বাণী: এক জন অন্য জনের বোঝা বহন করবে না  । মহানবী সা. এরশাদ করেছেণ:  জারজ সন্তান তিনটি মন্দের অন্যতম  । 

ক্স অবৈধ সন্তানের পিতা-মাতা মুসলিম হলে সে সর্বসম্মত মতানুসারে মুসলিম হিসেবে গণ্য হবে। উভয়ে যদি আলাদা ধর্মানুসারী হয়,  তাহলে পিতা-মাতার মধ্যে যার ধর্ম সর্বোৎকৃষ্ট, শিশুকে সেই ধর্মের অনুসারী ধরা হবে  । হাদীসে এসছে, ’সকল সন্তান স্বভাবধর্ম ইসলামের উপর জন্মগ্রহণ করে’। 

ক্স তাকে মুয়াজ্জিন বানানো যায়েজ, তবে উপযুক্ত অন্য কেউ থাকলে তাকে মুয়াজ্জিন নিয়োগ না দেয়াই উত্তম, কোন কোন আলিম মাকরুহ বলেছেন। সাধারণত:  তাদের অভিভাভকত্বের ত্রæটির কারণে বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই দ্বীনী জ্ঞানার্জনে তারা সুশিক্ষিত হয় না। তাই এক্ষেত্রে অন্যরা প্রধান্য পাবে  । ইমাম সারাখসী বলেন:   আযান যেহেতু অনেক বড় জিকর, তাই এক্ষেত্রে কোন সম্মানিত ও বরকতপূর্ণ পূন্যবান লোককে নির্বাচন করতে হবে ।

ক্স জমহুর আলিমদের মতে, সঠিকভাবে ইমামতির সকল শর্ত পূরণ হলে তাকে ইমাম বানাতে কোন সমস্যা নেই। ইমাম আযম র., ইমাম শাফেয়ী র., মুজাহিদ র. ও ্ওমর ইবন আব্দুল আযীয রহ. এর মতে অবৈধ সন্তানের ইমামতি করা মাকরুহ। তবে হযরত আইশা রা. ইমাম আহমদ, আতা. সুলাইমান বিন মূসা, হাসান বসরী এবং ইব্রাহীম নখয়ী র. এর মতে সে যদি দ্বীনের উপর সন্তুষ্ট  থাকে তবে মাকরুহ নয়  ।

ক্স জারজ সন্তানকে ব্যভিচারীর সন্তান বলে গালি দেয় যাবে না,     কেউ গালি দিলে ক্বযফ বা মিথ্যা অপবাদ হবে  ,    তার উপর মিথ্যা অপবাদের জন্য হদ্দের শাস্তি প্রযোজ্য হবে  । 


ধন্যবাদান্তে

Muhammad Ullah,
Advocate,  Supreme Court of Bangladesh,
Head of   Chamber "Muhammad Ullah and Associates",  
Meherba Plaza, Suite No. 9/A, 
(9th Floor) 33, Topkhana Road, 
Purana Paltan, Dhaka-1000.
Email: mullahiuk@gmail.com,
Cell:  01719917214






Tuesday, December 13, 2022

ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ অধীনে গঠিত সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ও নির্বাচন ট্রাইবুনাল আদেশ বা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হবে

 ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ এর ২৩ (৪) ধারা ও স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০ এর বিধি ৬১ (৩) অনুসারে বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ও নির্বাচন ট্রাইবুনাল আদালতের কোন অদেশ বা রায় এর বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ হল আপিল কিন্তু অনেকে ভুলক্রমে আপিল দায়েরের পরিবর্তে সিভিল রিভিশন দায়ের করেন যাহা সমপূর্নরুপে ইউনিয়ন পরিষদ আইন ও বিধির ব্যত্যয় পরিপন্থি। উক্ত আইনে বিচার প্রক্রিয়ায় দেওয়ানী কার্যবিধির অনুসরন করা হয় এতে অনেকে ভাবেন জেলা জজ আদালতে সিভিল রিভিশন হইবে যাহা ভুল ধারনা। ইউনিয়ন পরিষদ আইন ২০০৯ এর ২৩ (৪) ধারা ও স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০ এর বিধি ৬১ (৩)রায় বা আদেশের ক্ষেত্রে আপিল হইল যথাযথ ফোরামkHAN JAHAN Ali (kalu) Patawari vs-Md. Yousuf khan, 4ALR-2014-2, 248 উক্ত মামলায় রায় বলা হয়েছে

“The provision of section 115 of the CPC has conferred jurisdiction in this Court to hear revision application from a suit or proceeding which is decided by a sub-ordinate Court in its capacity as a civil Court and in its exercise of its jurisdiction under CPC. The impugned judgment and order , in the instant case , has been passed in an election appellate Tribunal, constitute under this section 23 (1) of the Local Government (Union Council ) Act, 2009. Hence, in this case section 115 of the CPC shall not apply.”
 
Avwcj মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০ এর সংশ্লিষ্ট  বিধি 

৬১। নির্বাচনী দরখাস্ত এবং নির্বাচনী আপীল নিষ্পত্তি।⎯


(১) নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল কোন নির্বাচনী দরখাস্ত প্রাপ্তির পর দরখাস্তে উল্লিখিত সকল বিবাদীকে নোটিশ প্রদান করিবেন।


         (২) নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল, দরখাস্তকারীকে এবং দরখাস্ত প্রতিদ্ব›দ্বীতাকারী বিবাদীগণকে, যদি কেহ থাকেন, শুনানীর সুযোগ প্রদান করিবেন এবং উভয় পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণের পর উহার বিবেচনায় যথোপযুক্ত আদেশ প্রদান করিতে পারিবেন।


(৩) নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের আদেশ দ্বারা সংক্ষুব্ধ পক্ষ, উক্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ত্রিশ (৩০) দিনের মধ্যে, নির্বাচনী আপীল ট্রাইব্যুনালে আপীল দায়ের করিতে পারিবেন এবং সেইক্ষেত্রে নির্বাচনী আপীল ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হইবে।


(৪) নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক কোন নির্বাচনী দরখাস্ত দাখিলের একশত আশি (১৮০) দিনের মধ্যে এবং নির্বাচনী আপীল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক নির্বাচনী আপীল দায়েরের একশত বিশ (১২০) দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করিতে হইবে।


(৫) নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল নির্বাচনী দরখাস্ত শুনানীর পর কোন নির্বাচিত প্রার্থীর নির্বাচন বাতিল বলিয়া ঘোষণা করিতে পারিবেন, যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে⎯


(ক) নির্বাচিত প্রার্থীর মনোনয়ন অবৈধ ছিল ; বা


(খ) নির্বাচিত প্রার্থী মনোনয়নের তারিখে চেয়ারম্যান, বা, ক্ষেত্রমত, সদস্য পদে নির্বাচিত হইবার অযোগ্য ছিলেন; বা


(গ) দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপ বা বেআইনী আচরণ দ্বারা নির্বাচনী ফলাফল অর্জন করা হইয়াছে বা উত্তরূপ ফলাফল অর্জনের জন্য উক্তরূপ কার্যকলাপ বা আচরণ করা হইয়াছে; বা


(ঘ) নির্বাচিত প্রার্থী বা তাহার নির্বাচনী এজেন্ট বা অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক পরস্পর যোগসাজশে কোন দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপ বা বেআইনী আচরণ করা হইয়াছে; বা

 (ঙ) নির্বাচিত প্রার্থী বিধি ৪৯ এর উপ-বিধি (১) এ বর্ণিত নির্বাচনী ব্যয়ের সীমার অতিরিক্ত অর্থ খরচ করিয়াছেন।

নির্বাচনের সাধারন নিয়মের মধ্যে ভোট গ্রহন বা গননার সময় বা পরে কোন ধরনের অনিয়ম হলে প্রতিদন্ধিতাকারীপক্ষের এজেন্ট বা প্রতিনিধি অথবা কোন প্রার্থী লিখিত বা মৌখিক আপত্তি দাখিল করবেন। নির্বাচন চলমান অবস্থায় অথবা নির্বাচন শেষে ভোট গননার আগে বা পরে কোন প্রতিদন্ধিতাকারী পক্ষের এজেন্ট বা প্রতিনিধি অথবা কোন প্রার্থী ভোট গ্রহন অথবা ভোট গননার অনিয়মের অভিযোগ আনয়ন না করেন অথবা সকল প্রার্থী তথা চেয়ারমান, ভাইস চেয়ারমান এবং মেম্বার প্রার্থী অথবা তাদের এজন্টেগন আপত্তি আনয়ন না করেন এবং তাহারা ফিষ  নির্বাচনী ফলাফলে সাক্ষর করেন। সেক্ষেত্রে বিজ্ঞ আদালতে সাক্ষ্য প্রমান গ্রহন ব্যতিত একতরফা আদশে প্রদান করিতে পারেন না মহামন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিদান্ত রয়েছে। যেমন, ২৮ ইখউ(অউ) (২০০৮) ২৪১ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের উক্ত মামলায় রায় বলা হয়েছে

“In order to make out a case for recounting the person who challenges the counting has to prove that at the time of counting votes by the Presiding Officer a contesting candidate or his election agents upon raising specific objection as specifically requested the Presiding Officer to re-count the ballot papers and the same was improperly refused or was not done in accordance with law

 

 মহামন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে অন্য একটি মামলায় রায় দিয়েছেন46  DLR (AD) 96 উক্ত মামলায় রায় বলা হয়েছে

That before recounting of ballot papers evidence should be led for foundation for re-opening of the ballot papers.”

মহামন্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে অন্য একটি মামলায় রায় দিয়েছেন। ২ খঘঔ (২০১৩) ১১১ উক্ত মামলায় রায় বলা হয়েছে

After counting the ballot papers, the respondent No. 7 or any other contesting candidates did not take any steps to recount the ballots by filing any application before Presiding Officer of any of Polling Station which they would ordinarily have done if there was any truth in the pleas canvassed by the respondent No. 7 in his election petition and application for recounting of votes which was made after a lapse of seven months from counting of votes. In the absence of any evidence regarding improper counting of votes it is difficult to accept the finding of the tribunal that the factual foundation for inspection and recounting has been established satisfactorily. Court can safely ignore to take notice of allegation which is couched in vague and nebulous manner. The averments made in the petition and the materials brought on record by respondent No. 7 did not at all proved. Both the tribunals acted unlawfully in passing the order of inspection and recounting of ballot papers.….(13, 23, 27, 30 & 31)


ধন্যবাদান্তে

Muhammad Ullah,

Advocate,  Supreme Court of Bangladesh,

Head of  "Muhammad Ullah and Associates",  

Meherba Plaza, Suite No. 9/A, 

(9th Floor) 33, Topkhana Road, 

PuranaPaltan, Dhaka-1000.

Email: mullahiuk@gmail.com,

Cell :  01719917214



ইসলামী আইনে সুখাধিকার : একটি পর্যালোচনা

 ভূমিকাঃ  

ইসলাম আইনে ও বাংলাদেশে আইন সুখাধিকার রয়েছে এই বিষয়টা অনেকেই অবগত নয়। আমাদের সমাজে সুখাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে বাস্তব ও সমাজ জীবনে নানাবিধ সমস্যা প্রতিফলিত হয়। অনেক সময়ে দেখা যায় কোন ব্যাক্তি তার সম্পত্তির ব্যবহারের দ্বারা প্রতিবেশীর সম্পত্তির নষ্ট কিংবা একবারেই মুল্যহীন করে ফেলে যেমন আলো বাতাশ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, পথচলা চলের অধিকার সংকচিত করে ফেলে। আমাদের সম্পত্তির শান্তিপূর্ন ভোগ-দখলের ক্ষেত্রে প্রতিবেশির সাথে প্রায় ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকে। এমনকি এই কলহ-বিবাদেও সুষ্ঠ সমাধান শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়। অথচ ইসলাম আইনে ও বাংলাদেশে আইন সুখাধিকার প্রয়োগে সুষ্ঠ সমাধান রয়েছে। 

ব্যবহার স্বত্ব/সুখাধিকার(Easement)  

সুখাধিকার এমন একটি অধিকার যাহা কোন জমির মালিক বা দখলকার উক্ত জমির লাভজনক ভোগের জন্য যাহা নিজের নহে এমর অন্য কোন জমিতে বা তাহার উপরে বা উক্ত জমি সম্পর্কে কোন কিছু করা এবং তা অব্যাহত রাখা,  কোন কিছু করা হইতে বাধা দেওয়া বা তাহা অব্যাহত রাখিবার স্বত্ব ভোগ করে” সুতরাং ইজমেন্ট বা সুখাধিকার বলতে এমন এ সুবিধাভোগী স্বত্বের অধিকারকে বুঝায় যদ্বারা কোন জমির মালিক বা দখলকার তার জমির সুবিধাজনক ভোগের জন্য অপর কোন ব্যক্তির জমির উপর দিয়ে কিছু করতে বা করা অব্যাহত রাখতে বা  কোন কিছু নিবৃত্ত করতে বা নিবৃত অব্যাহত রাখতে পারে। যেমন, পথের অধিকার,  ও ¯্রােতের অধিকার, পানি বের করে দেওয়ার অধিকার, আলো কিংবা বাতাসের অধিকার ইত্যাদি।

তামাদী আইনের ১৯০৮ এর ২(৫) ধারায় বলা আছে “ব্যবহার স্বত্ব বলতে এমন অধিকার বুঝায় যা কোন চু্িকতর ফলে উদ্ভুত হয় নাই। এবং যাদ্বারা কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তি স্বত্বাধীন জমি কোন অংশ বা বা তার কোন ফসল বা তাতে সংযুক্ত বা অবাঞ্চিত কোন কিছ নিজের লাভের জন্য অপসারন ও ব্যবহার করার অধিকার লাভ করে। The Easements Act 1882 Gi 4 aviv g‡Z “An easement is a right which the owner or occupier of certain land possesses, as such, for the beneficial enjoyment of that land, to do and continue to do something or to prevent and continue to prevent something being done, in or upon, or in respect of, certain another land not his own

 

ইসলামী আইনে যভোবে ব্যবহার স্বত্ব/সুখাধকিার র্অজতি হয়ঃ

  ইসলামী আইন অন্যরে জমরি উপর দয়িে পথরে অধকিার বা পানি নষ্কিাশনরে এবং মহলিাদরে র্পদার অধকিার (Right of Easement র্অজন করার অনুমতি দয়িছে।ে র্পদার অধকিারকে প্রাচীন আইনতত্ত¡বদিগণ স্বীকার করনে ন।ি কতদনি ভোগ করলে সুখাধকিার র্অজন করা যাবে তা ইসলামী আইন নর্দিষ্টি করে দয়েন,ি তবে এ ভোগাধকিারকে প্রাচীন হতে হব।ে যমেন, কোন ব্যক্তি নতুন ইমারত তরৈীর সময় তার বাড়রি পানি অন্যরে জমরি উপর দয়িে বরে করে দবোর দাবি করতে পারে না।


BiZ&dvK¡v ev (e¨envi¯^Z¡) `vex Kivi mv‡_ m¤úwK©Z Bmjvgx weavbt

ইরত্ফাক্বা বা (ব্যবহারস্বত্ব) অধিকার দাবী করার ক্ষেত্রে মূল বিধান হচ্ছে, তা বৈধ ও জায়েয। কখনো এ দাবী করা আবশ্যক ও ওয়াজিব হয়ে যায়, যখন অধিকারের বিঘিœত হলে বৃহৎ ক্ষতির সম্ভবনা আশাংখা রয়েছে। ফিকহ বিজ্ঞানে কাওয়ায়েদে ফিকহিয়্যার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস ও ইস্তিহসানের আলোকে ফিকহী কায়েদা সমূহের উদ্ভব হয়েছে। ইসলামী শরীয়াতের মাসয়ালা মাসায়েলের বিভিন্ন শাখা প্রশাখা রয়েছে সে সকল নীতিমালা কাওয়ায়েদুল ফিকহিয়্যাহর কাওয়ায়েদে থেকে পরিপূর্নভাবে অবগত হওয়া যায়। যেমন কাওয়ায়েদুল ফিকহিয়্যাহ একটি শাখা কায়েদা হলো- ( আল কাদিম ইউতরুকু আল কিদামিহি) ”

قدمه علي يترك القديم ا

অর্থাৎ ইসলামী শরীয়তে প্রবর্তিত পুরাতন কোন বিষয় তার পূর্বাবস্থায় বহাল থাকবে যতক্ষন না পর্যন্ত বিপরিত কিছু না আসে।

উপরোক্ত কাওয়ায়েদুল ফিকহিয়্যাহর শাখা কায়েদাটি ব্যাখ্যা বিশ্লেষন করলে ব্যবহার স্বত্ব/সুখাধিকার (জরমযঃ ড়ভ ঊধংবসবহঃ) সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা পাওয়া যায়। সুতরাং ইসতিহকাক বস্তু বা সম্পদ দাবীদারের মালিকানায় পরিনত হবে, পূর্বে তা যার কাছে ছিল সে তাতে আপত্তি করলেও এ মালিকানা স্থানান্তর মোটেই বাধাগ্রস্থ হবে না। কেউ কোনো দাবী দলিলসহ উল্লেখ করলে তা প্রমাণিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। এটিই অধিকাংশ ফকীহের মত।

 

ইসলামী আইন গ্রন্থসমূহে সুখাধিকারসমূহ অর্জনের বেশ কিছু নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে, যেমন মাজাল্লাতুল আহকামিল আদালিয়্যাতে[১] এসেছে,

ধারা-১২২৪: কোনো পথ বা জল¯্রােত অথবা পানি বের করার অধিকারের ক্ষেত্রে সুখাধিকার হিসাবে প্রাচীনতার দিক বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ  পূর্বকাল থেকে বিদ্যমান আছে সেভাবে সেটা থাকবে। তবে যদি এর (প্রাচীনত্বের) বিপরীত কোনো প্রমান পাওয়া যায় সেটা ভিন্ন। আর শরী,আতের বিরোধী হলে সেটা প্রাচীন হলেও গ্রহনযোগ্য নয়। এতে যদি অপরিমিত ক্ষতি হয়, তবে তা অবশ্যই দূরীভূত করতে হবে। যেমন, যদি কোনো ঘর থেকে জনসাধারণের রাস্তার ময়লা -আবর্জনার  ড্রেন বের হয়, আর তা অনেক দিন থেকেই চলে আসছে এবং মানুষের, ক্ষতির কারণ হচ্ছে তখন সে ক্ষতির প্রতিকার করতে হবে, এতে প্রাচীনত্বের কোনো প্রভাব পড়বে না। 

 

 (ক) ধারা- ১২২৫: অন্যের আঙিনা বা চও¦র দিয়ে যদি কারও পথচলাচল বা অতিক্রম করার অধিকার থেকে থাকে, তাহলে মালিক ঐ ব্যক্তিকে পথ চলাচল বা অতিক্রম করা হতে বাধা দিতে পারবে না। (তবে শর্ত থাকে যে ঐ ব্যাক্তিকে প্রমান করতে হবে যে এখানে পূর্বকাল থেকেই তার চলাফেরার অধিকার ছিল)।


(খ) ধারা-১২২৬: মালিকের অনুমতিক্রমে কেউ যদি সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্যের আঙিনা বা চও¦র দিয়ে পথ অতিক্রম করে, মালিক ইচ্ছা করলে এরপর তাকে সে পথে চলা থেকে নিষেধ করতে পারবে।

 

(গ) ধারা-১২২৭: যেখানে কোনো ব্যক্তির অন্যের সুনিদিষ্ট আঙিনার উপর দিয়ে পথচলাচলের অধিকার থাকে, মালিক যদি চলাচলের অধিকারসম্পন্ন ব্যক্তির অনুমতি নিয়ে ঐ পথের উপর কোন ভবন নির্মাণ করে, তাহলে তার পথ চলাচলের অধিকার বাতিল হয়ে যাবে এবং মালিকের সাথে তার কোনো বিবাদের অধিকার থাকবে না।

 

(ঘ) ধারা -১২২৮: যখন কোনো ব্যক্তির আবহমান কাল থেকে অন্যের আঙিনার উপর দিয়ে পানি সরবরাহের কৃত্রিম নালা এবং পানি নিষ্কাশনের অধিকার থেকে থাকে, তাহলে তাকে এই বলে বাধা প্রদান করা যাবে না যে ‘আপনাকে এর পরবর্তীতে আর পানি নিষ্কাশন করতে দেওয়া হবে না’। তারপর যদি সেটার কোনো সংস্কার প্রয়োজন হয়, তখন উভয়ে সেটা সংস্কার করতে পারবে। কিন্তুু অন্যর জায়গায় প্রবেশ ব্যতীত সংস্কার করা সম্ভব না হয়, তবে সে ব্যক্তি অবশ্যই তাকে সংস্কারের জন্য প্রবেশ করতে অনুমতি প্রদান করবে, না দিলে বিচারক তাকে তা প্রদান করতে বাধ্য করবে অথবা তাকেই সে নালাটি সংস্কার করে দেওয়ার নির্দেশ দিবে।

(ঙ) ধারা- ১২২৯: যদি কারও গৃহের বৃষ্টির পানি প্রতিবেশীর গৃহের উপর আবহমনকাল থেকে পড়ে, তাহলে প্রতিবেশী এই বলে বাধা প্রদান করতে পারবেনা যে, এরপর আমি আর পানি পড়তে দিব না।

 

(চ) ধারা -১২৩০ : কোনো ঘরের পানি পড়ার নল যদি আবহমান কাল থেকে কোনো রাস্তার উপর দেওয়া থাকে, আর সেখানে থেকে নিচে পূর্ব থেকে প্রবাহিত কোনো আঙিনায় পতিত হয়ে চালু থাকে,তথন আঙিনার মালিক সে প্রাচীন পানির প্রবাহকে বন্ধ করার অধিকারী হবে না। তারপর যদি সে তা বন্ধ করে দেয়, তবে সে বিচারকের কাছে এর প্রতিকার চাইতে পারে, যাতে বিচারক সেটাকে তার পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিতে পারে।

(Q) ধারা -১২৩১ :  কোনো ব্যক্তি নিজের ঘরের পানি নতুন করে অন্যের বাড়িতে প্রবাহিত করতে পারবে না।

(জ) ধারা- ১২৩২ : গৃহের মালিক অথবা এটা যার নিকট বিক্রি হয়েছে সে ক্রেতা, এমন কোনো পানিপ্রবাহ থেকে বাধা প্রদান করতে পারবে না যা পূর্ব থেকে প্রবাহিত রয়েছে। বরং যেভাবে পূর্বে ছিল সেভাবেই রাখতে হবে।


(ঝ) ধারা- ১২৩৩ : পানি প্রবাহিত করার ফলে যদি গৃহের কোনো অপরিমিত ক্ষতি হয় তাহলে ঘরের মালিক সেই পানি প্রবাহের অধিকারী ক্যক্তিকে এর জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে বাধ্য করতে পারবে।


ব্যবহার স্বত্ব/ সুখাধিকার লাভের সময়সীমা 

ইসলামী আইনে সুখাধিকার অর্জন করার অনুমতি দিয়েছে তবে  কতদিন ভোগ করলে সুখাধিকার অর্জন করা যাবে তা ইসলামী আইন নির্দিষ্ট করে দেয়নি। বাংলাদেশের The Easement Act 1882 এর ১৫ ধারা এবং The law of Limitation 1908 এর ধারা- ২৬ এ সুখাধিকার অর্জনের সময়সীমা  বর্নিত হয়েছে । যখন কোন আলো অথবা বাতাস প্রবেশ করার এবং সুবিধা অধিকার হিসেবে কোনরুপ বাধা প্রধান ব্যতিরেকে ২০ বৎসরকাল শান্তিপূর্নভাবে ভোগ করা হইয়াছে এবং তখন আলো কিংবা বাতাসের অনুরূপ গমনাগমন এবং ব্যবহারের অধিকার এবং এর সহায়ক যা কিছু থাকুক তা সুবিধা অধিকার হিসাবে বাধাহীনভাবে চূড়ান্ত হবে।তামাদী আইনের ২৬ (১) ধারা মতে, যেক্ষেত্রে কোন দালানে আলো বা বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার সুখাধিকার হিসেবে এবং অধিকার হিসেবে অব্যাহতভাবে এবং বিশ বৎসর শান্তিপূর্নভাবে ভোগ করা হয়েছে। সেক্ষত্রে অনুরুপ আলো-বাতাশের প্রবেশ ও ব্যবহার, পথ,জলশ্রোত, পানির ব্যবহার অথবা অন্য যেকোন সুখাধিকার নিরাণ্কুশ ও অলংঘনীয় অধিকারে পরিনত হবে। যদি কােন মামলায় উক্তরুপ কোন অধিকারের দাবির বিরোধিতা করা হয়, সে মামলায় উক্ত ক্ষেত্রে ২০ বৎসর বলতে মামলা দায়েরের তারিখ হতে অব্যবহিত দুই বৎসরের মধ্যে সমাপ্ত ২০ ( বিশ) বৎসর বুঝাইবে।তামাদী আইনের ২৬ (২) ধারা মতে,  যে সম্পত্তির উপর (১) উপধারা অনুসারে অধিকার দাবী করা হয়, তা যদি সরকারের সম্পত্তি হয় তবে উক্ত উপধারায় বিশ বৎসর কথাগুলির স্থলে ৬০ (ষাট) বৎসর কথাগলো প্রতিস্থাপিত হবে।

 

ব্যবহার স্বত্ব/ সুখাধিকারে বাধা সৃষ্টি হলে মামলা

আমাদের দেশের প্রচলিত তামাদী আইন ১৯০৮ এর ২৬ ধারা মোতাবেক যদি কোন ব্যক্তি বেসরকারী সম্পত্তি অর্থাৎ কারো ব্যাক্তিগত সম্পত্তির ক্ষেত্রে ২০ বছর ধরে এবং সরকারী সম্পত্তির ক্ষেত্রে ৬০ বছর ধওে অবিচ্ছিন্নভাবে স্বীয় অধিকারে আলো, বাতাস, পানি কিংবা পথ চলার অধিকার ভোগ কওে থাকে তবে দীর্ঘদিন ভোগ করার ফলে বোগ দখলকারীর অনুকুলে যে অধিকার সৃষ্টি হয়, সেই অধিকার বিঘিœত হলে আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবে। ব্যবহার স্বত্ব/ সুখাধিকার দেশের প্রচলিত এখতিয়ার সমপন্ন দেওয়ানী আদালতে মুল্যানুপাতিক কোর্ট ফি প্রদান করে আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করার বিধান রয়েছে। The Easement Act এর ৩৩ ধারা মতে, প্রধান উত্তারাধিকারের বিদ্যমান কোন স্বার্থের মালিক কিংবা অনুরুপ উত্তারাধিকারের কোন ভোগকারী সুবিধাধিকারের অথবা উক্ত সুবিধাধিকার সহায়ক কোন অধিকার ভোগে বাধাদানের জন্য ক্ষতিপুরনের মামলা দায়ের করিতে  পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত বাধাদানের ফলে প্রকৃত পক্ষেই বাদীর মৌলিক কোন ক্ষতি হইল।

 

The Easement Act এর ৩৫ ধারা অনুযায়ী সুবিধাধিকার প্রতিব›দ্ধকতা প্রতিহত করার জন্য আদালতের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা জারী করা যাইবে। যদি প্রথমত, সুবিধাধিকার প্রকৃতপক্ষেই বাধাগ্রস্থ হয় যখন এই অধ্যায়ের অধীনের অনুরুপ বাধাদানের জন্য ক্ষতিপূরন আদায় করা যাইবে; দ্বিতীয়ত, যদি অধিকাওে হুমকী সৃষ্টি করা হয় বা সৃষ্টি করার ইচ্ছা ব্যক্ত করা হয়। যখন হুমকী সৃষ্টিকারী বা সৃষ্ট করার ইচ্ছা ব্যক্তকারী কার্যটি যদি সমপন্ন করে তখন প্রয়োজন মতই ইহা ব্যবহারে বাধা সৃষ্টি করে। 


  উপসংহার


যদিও শরীয়ত সম্মত এবং প্রচলিত আইনে তথা বৈধ পন্থায় প্রতিটি ব্যক্তির নিজস্ব সম্পত্তির মালিকানা ও ভোগ দখল লাভ করার অধিকার আছে তা তার পাশ্ববর্তী অথবা সাধারন জনগনের জন্য ক্ষতিকর হবে সেভাবে ভোগ করার অধিকার প্রচলিত ও ইসলামী আইনে প্রতিব›দ্ধকতা রয়েছে। সাধারণভাবে প্রত্যেকে তার নিজের জমিকে যেভাবে তার পক্ষে সব চাইতে সুবিধাজনক হয় সেভাবে ভোগ ও ব্যবহার করতে পারেন তবে তিনি তার সম্পত্তির ব্যবহারের দ্বারা প্রতিবেশির সম্পত্তির নষ্ট কিংবা একবারেই মুল্যহীন করতে পারবে না। মালিকানা না থাকলেও সম্পত্তির উপর অন্য প্রকারের অধিকার বিশেষ বিশেষ ব্যক্তির বরাবরে উদ্ভব হইতে পারে, যেমন পথের ও ¯্রােতের অধিকার, পানি বের করে দেওয়ার অধিকার, এই অধিকারকে প্রচলিত আইনে ইজমেন্ট (জরমযঃ ড়ভ ঊধংবসবহঃ) বলা হয়, আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক সম্পত্তির মালিকের সহিত তার প¦ার্শবতী জমি মালিকের অথবা প্রতিবেশীর সহিত সম্পত্তির শান্তিপূর্ন ভোগ- দখলের ক্ষেত্রে ঝগড়া-বিবাদ এড়ানোর জন্য এই অধিকার দেশের বিদ্যমান প্রচলিত আইনের অধীনে দেওয়ানী আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য করার বিধান প্রবর্তন করা হয়েছে

Muhammad Ullah,
Advocate,  Supreme Court of Bangladesh,
Head of   Chamber "Muhammad Ullah and Associates",  
Meherba Plaza, Suite No. 9/A, 
(9th Floor) 33, Topkhana Road, 
Purana Paltan, Dhaka-1000.
Email: mullahiuk@gmail.com,
Cell:  01719917214




র্অথঋণ আদালত কর্তৃক একতরফা ডিক্রি প্রদান করা হইলে বিবাদীর প্রতিকার

 র্অথঋণ আদালতে একতরফা ডিক্রি

দেওয়ানী কার্য বিধি আইনের বিধান অনুযায়ী শুনানীর সময় বাদী উপস্থিত  এবং বিবাদী অনুপস্থিত থাকিলে উক্তরূপ অনুপস্থিতি কারণে  বিবাদী আদালত যে ডিক্রি প্রদান করা হয়, তাহাকে ‘এক তরফা ডিক্রি ' বলে । কিন্তুু  র্অথঋণ আদালত আইন, ২০০৩ একটু ব্যাতিক্রম শুনানীর দিন  বিবাদী অনুপস্থিত থাকলে  র্অথঋণ  মামলা একতরফাসুত্রে নিষ্পত্তি হবে বাদীপক্ষ উপস্থিত থাকুক বা না থাকুক। বাদীর অনুপস্থিতি কারণে  র্অথঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ১৯৷ (৬) ধারা মতে মামলা খারিজ বারিত করা হয়েছে তার মানে মামলা খারিজ হবে না।  এমনকি র্অথঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ১০ ধারা বিধান মতে  মতে , উক্তআইনানুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিবাদী লিখিত জবাব দাখিল না করিলে র্অথঋণ  মামলা একতরফাসুত্রে নিষ্পত্তি বিধান রয়েছে। র্অথঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ১৯ ধারায় এক তরফা ডিক্রি সংক্রান্ত বিষয় আরোচনা করা হয়েছে তা হলো-

১৯৷ (১) মামলার শুনানীর জন্য ধার্য কোন তারিখে বিবাদী আদালতে অনুপস্থিত থাকিলে, কিংবা মামলা শুনানীর জন্য গৃহীত হইবার পর ডাকিয়া বিবাদীকে উপস্থিত পাওয়া না গেলে, আদালত মামলা একতরফা সূত্রে নিষ্পত্তি করিবে৷


 একতরফা ডিক্রির বিরুদ্ধে বিবাদীর প্রতিকার

 র্অথঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ১৯ (২) ধারার বিধান মতে কোন মামলায়  কারো বিরুদ্ধে র্অথঋণ আদালত কর্তৃকএকতরফা সূত্রে ডিক্রী হইলে, বিবাদী উক্ত একতরফা ডিক্রীর তারিখের অথবা উক্ত একতরফা ডিক্রী সম্পর্কে অবগত হইবার ৩০ (ত্রিশ) দিবসের মধ্যে, উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, উক্ত একতরফা ডিক্রী রদের জন্য একই আদালতে একতরফা ডিক্রিরদ রহিতের  দরখাস্ত করিতে পারিবেন৷ উক্ত ধারায় একতরফা ডিক্রি  রদ রহিতের দরখাস্ত দাখিলের সময়সীমা ৩০ দিনের কথা বলা হয়েছে এক্ষেত্রে  দিন গননায় সরকারী ছুটির দিন বাদ যাবে না।  উক্ত ধারানুযায়ী দরখাস্ত দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ধারা প্রযোজ্য নয়  কেননা র্অথঋণ আদালত আইন, ২০০৩ একটি বিশেষ আইন। বিশেষ আইনের ক্ষেত্রে তামাদি আইনের ধারা প্রযোজ্য নয় ।  এছাড়া এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে। 52 DLR 25

Section 5 of the limitation Act has no manner of application in the Artha in Adalat Ain 

র্অথঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ১৯ ধারায় একতরফা ডিক্রি  রদ রহিতের দরখাস্তকে মিস কেস বলা হয়।  এই মিস কেস যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেন সেই আদালতে দায়ের করিতে হয়। 

একতরফা ডিক্রি রদ-রহিতের পূর্বশর্ত 

র্অথঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ১৯ (৩) ধারার বিধান মতে কোন মামলায়  কারো বিরুদ্ধে র্অথঋণ আদালত কর্তৃকএকতরফা সূত্রে ডিক্রী হইলে, বিবাদী  (৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুযায়ী দরখাস্ত দাখিলের ক্ষেত্রে বিবাদীকে উক্ত দরখাস্ত দাখিলের তারিখের পরবর্তী ১৫ (পনের) দিবসের মধ্যে ডিক্রীকৃত অর্থের ১০% এর সমপরিমাণ টাকা বাদীর দাবীর সেই পরিমাণের জন্য স্বীকৃতিস্বরূপ নগদ সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, অথবা জামানতস্বরূপ ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা অন্য কোন প্রকার নগদায়নযোগ্য বিনিমেয় দলিল (Negotiable Instrument) আকারে জামানত হিসাবে আদালতে জমাদান করিতে হইবে৷ (৪) উপ-ধারা (৩) এর বিধানমতে ডিক্রীকৃত অর্থের ১০% এর সমপরিমাণ টাকা জমাদানের সংগে সংগে দরখাস্তটি মঞ্জুর হইবে, একতরফা ডিক্রী রদ হইবে এবং মূল মামলা উহার পূর্বের নম্বর ও নথিতে পুনরুজ্জীবিত হইবে, এবং আদালত ঐ মর্মে একটি আদেশ লিপিবদ্ধ করিবে; এবং অতঃপর মামলাটি যে পর্যায়ে এক তরফা নিষ্পত্তি হইয়াছিল, ঐ পর্যায়ের অব্যবহিত পূর্ববর্তী পর্যায় হইতে পরিচালিত হইবে৷ (৫) বিবাদী উপ-ধারা (৩) এর বিধানমতে ডিক্রীকৃত অর্থের ১০% এর সমপরিমাণ টাকা বাদীর দাবীর সেই পরিমাণের জন্য স্বীকৃতস্বরূপ নগদ সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, অথবা জামানতস্বরূপ ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার বা অন্য কোন প্রকার নগদায়নযোগ্য বিনিমেয় দলিল (Negotiable Instrument) আকারে জামানত হিসাবে আদালতে জমাদান করিতে ব্যর্থ হইলে, উক্ত দরখাস্তটি সরাসরি খারিজ হইবে; এবং আদালত ঐ মর্মে একটি আদেশ লিপিবদ্ধ করিবে৷

  

(৬) অর্থ ঋণ আদালতে বিচারাধীন কোন মামলা, বাদীর অনুপস্থিতির বা ব্যর্থতা হেতু খারিজ করা যাইবে না, এবং এইরূপ ক্ষেত্রে আদালত, নথিতে উপস্থাপিত কাগজাদি পরীক্ষা করিয়া গুণাগুণ বিশ্লেষণে মামলা নিষ্পত্তি করিবে৷


একতরফা ডিক্রি  রদ রহিতের জন্য পৃথক কোন মামলা দায়ের করা যাবেনা 

র্অথঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ১৯ ধারায় একতরফা ডিক্রি  রদ রহিতের দরখাস্তকে মিস কেস বলা হয়।  এই মিস কেস যে আদালত ডিক্রি প্রদান করেন সেই আদালতে দায়ের করিতে হয়। একতরফা ডিক্রি  রদ রহিতের জন্য বিবাদীর পৃথক কোন দেওয়ানী মামলা  অথবা হাইকোর্টে  রিট পিটিশন চলবে না।   ব্যাপারে উচ্চ আদালতের অনেক সিদ্ধান্ত রয়েছে।


The plaintiffs-appellants without availing the remedies available to them challenged the judgment and decree in a suit before a court of ordinary civil jurisdiction. The suit thus immediately barred by law justifying rejection of plaint 55, DLR 585, 12 MLR, 73


There being a specific remedy in the statute for filing appeal against the judgment and decree of the Artha Rin Adalat, the defendant not availing the of the aforesaid remedy cannot maintain the writ petitions ( 56 DLR (AD) 189 06),  (BCR 2006 (AD) 189)




Muhammad Ullah,

Advocate,  Supreme Court of Bangladesh,

Head of  "Muhammad Ullah and Associates",  

Meherba Plaza, Suite No. 9/A, 

(9th Floor) 33, Topkhana Road, 

PuranaPaltan, Dhaka-1000.

Email: mullahiuk@gmail.com,

Cell :  01719917214